দেশীয় পর্যায়ে ইউনিকর্ন কোম্পানি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে জাপান সরকার। এর অংশ হিসেবে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এ অর্থনীতি স্থানীয় স্টার্টআপে আরো বেশি বিদেশী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আকর্ষণে বিনিয়োগ নীতিমালায় সংশোধন আনছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
চলতি মাসের শেষ নাগাদ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও স্টার্টআপের মধ্যে চুক্তির ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা চূড়ান্ত করবে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে স্টার্টআপের জন্য বাধ্যবাধকতা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) নিয়ম বাতিল হবে। এর পরিবর্তে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিকল্প পথ হিসেবে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) উৎসাহিত করা হবে।
এর আগে সমালোচকদের অনেকে বলেছেন, বিদ্যমান বিনিয়োগ নীতির কারণে জাপানি স্টার্টআপে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বিদেশীরা। জাপানে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি স্টার্টআপ থাকলেও এক মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ম্যানেজারের মতে, বিনিয়োগ চুক্তিতে যদি বৈশ্বিক মানদণ্ড থেকে আলাদা শর্ত থাকে, তবে সে ঝুঁকি মেনে নেয়া কঠিন।
প্রতিষ্ঠিত বাজারগুলোয় নতুন প্রযুক্তি ও পরিষেবাভিত্তিক স্টার্টআপ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু এ খাতে পিছিয়ে রয়েছে জাপান। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ইউনিকর্ন বা কমপেক্ষ ১ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের ছয় শতাধিক স্টার্টআপ রয়েছে, সেখানে জাপানে এ ধাঁচের বেসরকারি কোম্পানি হাতেগোনা কয়েকটি। তাই ইউনিকর্ন সৃষ্টিকে জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে টোকিও।
জাপানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপের চুক্তিতে সাধারণত শর্ত থাকে, স্টার্টআপকে আইপিওতে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। ভেঞ্চার ফান্ডের বিনিয়োগ চক্র মোটামুটি ১০ বছরের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাধ্যবাধকতার কারণে ফান্ড মেয়াদোত্তীর্ণের দিকে এলে বিনিয়োগকারীরা স্টার্টআপকে দ্রুত শেয়ারবাজারে নিতে চাপ দেন।
ভেঞ্চার এন্টারপ্রাইজ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২৩ সালের মধ্যে গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আইপিওর মাধ্যমে অর্থ ফেরত নিয়েছে। এতে দেখা যায়, অনেকে কোম্পানি পর্যাপ্ত প্রস্তুতির আগেই বিনিয়োগকারীদের চাপে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং পরে আর্থিক স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্টার্টআপগুলোর জন্য আইপিওতে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তারা আইপিও অথবা একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের মধ্য থেকে সুবিধাজনক পথ বেছে নিতে পারে। সেখানে বড় কোম্পানির নতুন নতুন অধিগ্রহণও সাধারণ ঘটনা। ফলে এমঅ্যান্ডএ চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ তুলে নিতে পারেন।
জাপানের আরেকটি ব্যতিক্রম হলো, যদি স্টার্টআপ চুক্তি ভঙ্গ করে, ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলো তাদের মূল বিনিয়োগের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে পারে। এতে কখনো কখনো উদ্যোক্তাকে ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করে শেয়ার বাইব্যাক করতে হয়, যা কোম্পানি পুনর্গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এ ধরনের নীতি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নয়। নতুন নীতিমালায় এটি সংশোধন হতে পারে।
স্টার্টআপের ডাটা সংগ্রহকারী ওয়েবসাইট স্পিডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জাপানের স্টার্টআপগুলোর দেশীয় অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ৯৩০ কোটি ইয়েন বা ৫৩২ কোটি ডলার। অন্যদিকে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিচবুকের ডাটা বলছে, একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপগুলো সংগ্রহ করেছে ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।